লেখকের কাজ

মতামত শিল্প-সাহিত্য

আমাদের সাম্প্রতিক সাহিত্যচর্চা নিয়ে ভাবতে গেলে খেই হারিয়ে ফেলি। বুঝি না আমরা কি সাহিত্য সাধনা করছি, নাকি প্রতিযোগিতা করছি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, নাকি ঘোড়দৌড় দৌড়াচ্ছি। সাহিত্যে প্রতিযোগিতা থাকে। সেটা নিজের সাথে নিজের। প্রতিনিয়ত নিজেকে অতিক্রম করার প্রতিযোগিতা। সাহিত্যের জন্য যে মগ্নতা, যে নিমজ্জন প্রয়োজন তা কোথায়? আমরা যখন সাহিত্য সাধনায় ব্রত হয়েছিলাম তখন মানসে ধারণ করেছিলাম রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জসীমউদ্দীন, জীবনানন্দ, সুকান্তকে। বোধজুড়ে ছিলেন বিভূতিভূষণ, মানিক, শঙ্কর, আবু রুশদ, শওকত ওসমান। শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, আল মাহমুদ, ফজল শাহাবুদ্দিনের লেখা আমাদের ঋদ্ধ করেছিল। রাবেয়া খাতুন, রিজিয়া রহমান, সেলিনা হোসেন, হাসান আজিজুল হক, মাহমুদুল হক, শহীদুল জহীরের লেখা আমাদের পথের সন্ধান দিয়েছে। তাঁদের লেখা পড়েছি, আত্মস্থ করেছি। তাঁদের দেখানো পথে হেঁটেছি। লেখা আর পড়াকেই ধ্যানজ্ঞান বিবেচনা করেছি।
চল্লিশ বছর ধরে লেখার সাথে আছি। এক দিনের জন্যও লেখা ছাড়িনি। জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে লেখা। একটু একটু করে এগিয়েছি। আমরা যারা মফস্বল থেকে ঢাকায় এসেছি, তারা ঢাকার লেখকদের চেয়ে কম সুযোগ সুবিধা পেয়েছি। পত্রিকা অফিস চিনতাম না, সম্পাদকদের চিনতাম না, বাংলা একাডেমি চিনতাম। ভীরু ভীরু মনে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এক একটা লেখা পোস্ট করেছি। তারপর অধীর অপেক্ষায় থেকেছি। কখনো ছাপা হয়েছে, কখনো হয়নি। ভেঙে পড়িনি আমরা। তপস্বীর মতো লেগে থেকেছি। লেখা ছাপা হয়েছে লেখার গুণে। পত্রিকা অফিসে যেতে হয়নি, সম্পাদককে চিনতে হয়নি। লেখকদের জেনেছি তাদের লেখা পড়ে, ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ হয়নি।
মনে পড়ে প্রয়াত রোকনুজ্জামান খান দাদা ভাইয়ের কথা। কচিকাঁচার মেলা করার সুবাদে তাকে চিনতাম। তিনি ইত্তেফাকের সাহিত্য পাতা আর কচিকাঁচার মেলা দেখতেন। কচিকাঁচার মেলা আর মহিলা অঙ্গনে আমার লেখা নিয়মিত ছাপা হতো। সাহিত্য পাতায় লেখা ছাপা হতো না বলে মনে কষ্ট পেতাম। দিনের পর দিন লেখা পাঠাতাম। আর প্রতি শুক্রবার ভীরু বুকে পত্রিকার পাতা খুলে হতাশ হতাম। একদিন দাদা ভাইকে কাছে পেয়ে বলেছিলাম, ‘দাদাভাই, আমার লেখা কবে সাহিত্য পাতায় ছাপা হবে?’ দাদাভাই কাজ করতে করতে মৃদুস্বরে বলেছিলেন, ‘লিখে যাও। একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখবে সাহিত্য পাতায় জ্বলজ্বল করছে তোমার লেখা।’ ঠিক তাই হয়েছিল। কিন্তু তার জন্য আমাকে সাধনা করতে হয়েছিল। এক দিনে হয়নি।


দিন কয়েক আগে আমার এক বন্ধু ব্যথিতচিত্তে বলছিলেন, ‘কিচ্ছু ভালো লাগে না। এতগুলো লেখা পত্রিকায় পাঠালাম। একটাও ছাপা হলো না।’ আমার ওই বন্ধু ভালো লেখেন। অনেক দিন ধরে লিখছেন। তার লেখা ছাপার যোগ্য। কিন্তু তাকে আমি বলতে পারিনি, ‘সম্পাদকদের কাছে যান না, আপনাকে হয়তো চেনে না। তাই ছাপেনি।’ আরো বলতে পারিনি, ‘ওই বেদনায় আমিও পত্রিকায় লেখা পাঠানো ছেড়ে দিয়েছি। এখন যারা চায় তাদেরই লেখা দেই। তাগিদ দিয়ে বা তোয়াজ করে লেখা ছাপানো আমার নীতিবিরুদ্ধ।’
আজকাল চেনাজানা, যাতায়াত লেখা ছাপানোর ক্ষেত্রে একটা বড় বিষয়। এখন কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া লেখা ব্যক্তিগুণে ছাপা হয়, লেখার গুণে নয়। আর সে গুণ অর্জন করতে হয় খাইয়ে, গিফট দিয়ে, ভালো ভালো কথা বলে তুষ্ট করে। অবশ্য সব সম্পাদকের ক্ষেত্রে নয়। ভালো মানুষ, ভালো সম্পাদক আগেও ছিলেন, এখনো আছেন। নইলে দুনিয়ার ভারসাম্য থাকত না।
এক একটি পত্রিকাকে কেন্দ্রীভূত করে গড়ে উঠেছে একটি করে লেখক বলয়। ওরা যেন ওই পত্রিকারই লেখক। অন্যদের সেখানে প্রবেশ নিষেধ। অসংখ্য সাহিত্য সংগঠন রয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন সংগঠন ভূমিষ্ঠ হওয়ার খবর পাই। সেখানেও সেই একই ব্যাপার। প্রতিটি সংগঠনের আছে কিছু নিজস্ব লোক। সাহিত্যবিষয়ক যেসব আলোচনা ও সেমিনার হয় সেখানে প্রকৃত যারা জানেন তারা সুযোগ পান না। সুযোগ পান ওই সংগঠনের প্রিয়মুখেরা, তা কিছু জানুক আর না-ই জানুক।
সাহিত্যবিষয়ক অসংখ্য পুরস্কার ঘোষিত হচ্ছে বছরজুড়ে। সে পুরস্কারের কোনো কোনোটা বেশ বিশাল অঙ্কের। একশ্রেণীর লেখক হয়ে পড়ছেন পুরস্কারকেন্দ্রিক। তাদের উদ্দেশ্য পুরস্কার পাওয়ার জন্য লেখা আর সেই পুরস্কার পাওয়ার জন্য লেখা ছাড়া যা যা করা দরকার তা করা। কী প্রয়োজন এত শত সাহিত্য পুরস্কারের! যখন বাংলা একাডেমি, একুশে আর স্বাধীনতা পুরস্কার ছিল তখন এই পুরস্কারগুলোর মান ছিল, দাম ছিল। শত পুরস্কারের ভিড়ে এই পুরস্কারগুলো এখন আপন আইডেন্টিটি হারিয়েছে। সেটা যেমন এই অসংখ্য পুরস্কারের কারণে তেমনই পুরস্কার প্রদানে স্বচ্ছতার অভাবে।
ফেসবুক হয়েছে আর একটা বড় বিড়ম্বনা। ফেসবুকের কল্যাণে সবাই এখন কবি-সাহিত্যিক। ভালো লেখক হওয়ার জন্য বা মহৎ সৃষ্টির প্রেরণাতে যেন লিখছেন না, লিখছেন ফেসবুকে লেখা পোস্ট দিয়ে বন্ধুদের দেখানোর জন্য। তাদের কাছ থেকে লাইক-কমেন্টস পাওয়ার জন্য।
আগেই বলেছি লেখা নিমগ্নতার ব্যাপার। অতি প্রচার, অতি ঘোরাঘুরিতে লেখা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মন বিক্ষিপ্ত হয়। লেখার সময় কমে যায়। আর প্রচারপ্রিয়তা এমন এক অসুখ, একবার যাকে পেয়ে বসে তাকে সহজে ছাড়ে না। সে তখন প্রচারের পেছনে দৌড়ায়। আমাদের কিছু কিছু লেখক প্রচারের জন্য মারমুখী। তারা কবিতা-গল্প লিখছেন, গান গাইছেন, কবিতা পড়ছেন, সঞ্চালনা করছেন, সম্পাদনা করছেন, ছবি আঁকছেন, ছবি তুলছেন, সংগঠন করছেন, দোকান চালাচ্ছেন। ঠিক কোনটা করলে যে তারা সহজে বিখ্যাত হবেন বুঝতে পারছেন না। সবগুলোর পেছনে ছুটছেন। ভুলে যাচ্ছেন কোনটা তার আসল কাজ। আর একশ্রেণীর লেখক নিজেদের জন্মদিন পালন করছেন পয়সা দিয়ে নানান সংগঠনের ব্যানারে। জন্মদিন উপলক্ষে ঢাউস বই বানাচ্ছেন, বন্ধুদের অনুরোধ করে করে লেখাচ্ছেন। সে বইয়ের আবরণ উন্মোচন করছেন ঘটা করে। বড় বড় আবৃত্তিকারকে পয়সা দিয়ে, হল ভাড়া করে নিজের কবিতা পড়াচ্ছেন কোনো কোনো কবি। কিছু লেখক মেতেছেন ক্রেস্ট বাণিজ্যে। কাঁটাবন থেকে ক্রেস্ট বানিয়ে কলকাতা থেকে নিচ্ছেন। গলায় একটা উত্তরীয় ঝুলিয়ে ক্রেস্ট হাতে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন। আর এদের নিউজ করার জন্য মুখিয়ে আছে বেশ কিছু পত্রিকা। তারা নিউজ করছে। ক্রেস্ট বাণিজ্যে সওয়ারি হয়েছে বেশ কিছু সংগঠনও। অন্যের পয়সায় ক্রেস্ট বানিয়ে তাকে দেয়ার পরও হাতে কিছু থাকে। সাথে বাড়তি পাওনা নিজের সংগঠনের নাম আর নিজের নাম প্রচার হওয়া। কবি-সাহিত্যিকরা নিজের নামের সাথে ডক্টরেট ডিগ্রি জুড়ে দেয়াও আজকাল ফ্যাশন। এ ডক্টরেটগুলো কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পয়দা হয় তা আমার জানা নেই। আর ডক্টরেট জুড়লেই কি লেখার মান বাড়ে? আনিসুজ্জামান স্যার তাঁর নামের সাথে ডক্টর লেখেন না। তাতে কি তাঁর কৌলিন্য কমেছে কিছু?

ডক্টরেট যেমন জুড়ছেন তেমনি নামের আগে জুড়ে দিচ্ছেন কবি। লজ্জা লজ্জা! রবীন্দ্রনাথ-নজরুলও কোনো দিন বলেননি তাঁরা কবি!
কথায় কথা বাড়ে। বলছিলাম নিমগ্নতার কথা। সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান। সভা সমিতি সংগঠনে তাঁকে খুবই কম দেখা গেছে। নিজের মনে লিখেছেন। পড়েছেন প্রচুর। লেখার আগে নিজেকে তৈরি করেছেন। নির্মাণ করেছেন বীজতলা। অঙ্কুরোদগম হওয়ার আগেই ফুল-ফলের কথা ভাবেননি। তিনি বলতেন, ‘লেখকের কাজ লেখা, নিরবচ্ছিন্নভাবে লেখা। যে প্রলোভনে পড়েছে সে মরেছে।’ ১৯৭৮ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেয়া হলেও একুশে পদক দেয়া হয়েছে ২০১৮ সালে। তাঁকে যে এতগুলো বছর পদক দেয়া হলো না, তাঁর কনিষ্ঠতম লেখকদের দেয়া হলো তাঁকে ডিঙিয়ে এ নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবনা ছিল না তাঁর। শোকসভায় তাঁকে একুশে পদক দেয়া নিয়ে বিভিন্ন বক্তা তাদের সম্পৃক্ততার কথা বলেন। সে দিন লেখকের পুত্র আবদুর রহমান তপু বলেন, ‘মা কখনো পুরস্কারের কথা ভাবেননি। একুশে পদক ছিল আমাদের জীবনে একটি দুর্ঘটনা। মা একুশে পদক না পেলে কী হতো!’
আমিও বলি, রিজিয়া রহমান যদি একুশে পদক না পেতেন তাতে কী হতো! তাঁর রক্তের অক্ষর, বং থেকে বাংলা আলবুর্জের বাজ-এর অসামানত্ব কি তাতে চাপা পড়ত? আর পদক পাওয়াতে কি তাঁর বইগুলোর ঔজ্জ্বল্য বিন্দুমাত্র বেড়েছে? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বং থেকে বাংলা পাঠ্য, বাংলাদেশে নয়। রক্তের অক্ষর অনূদিত হয়েছে অনেকগুলো ভাষায়। বাংলাদেশ তাঁকে সময়ে মূল্যায়ন করেনি তাতে তাঁর কিছুই ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি। তাঁর শবযাত্রায় মাত্র পাঁচজন লেখক উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাঁর শোকসভায় তিল ধারণের স্থান ছিল না। কিন্তু এই জনসংখ্যা দিয়ে তাঁকে মাপা যাবে না। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে তার অগণিত পাঠক। যারা সিরিয়াস পাঠক। তারা তাঁকে ভালোবাসে এবং নিশ্চিত দিনে দিনে তাঁর পাঠকসংখ্যা বাড়বে। লেখাই তাঁকে অমর করে রাখবে।
পুরস্কার নয়, জনসংযোগ নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘তুমি যতই বড় হও, মৃত্যুর চেয়ে বড় নও। আমি মৃত্যুর চেয়ে বড়।’ রিজিয়া রহমানের নশ্বর শরীর মৃত্যুর চেয়ে বড় নয়। লেখা মৃত্যুর চেয়ে বড়, অবিনাশী। লেখার মৃত্যু নেই। একথা সব কালজয়ী লেখকের ক্ষেত্রেই সত্য।
প্রসঙ্গক্রমে বলি, আর এক লেখক শহীদুল জহিরের কথা। এক সময় আমি তাঁর সাথে একই অফিসে চাকরি করতাম। বেশির ভাগ লেখকের প্রবণতা টেবিলে কাচের নিচে নিজের বইয়ের কাভার রাখা অথবা দেয়ালে প্রচ্ছদ সেঁটে রাখা। আমলা লেখকদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। অনেকে চেয়ারের গুণেও কিছু সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকে। দিনের পরদিন শহীদ স্যারের কাছে কাজ করেছি।
জানতাম না তিনিই শহীদুল জহির। তিনি জানতেন আমি লিখি। কিন্তু কোনো দিন ভুলেও বলেননি তিনি লেখক। এমনই প্রচারবিমুখ ছিলেন। স্যার ‘কাগজ সাহিত্য পুরস্কার’ পাওয়ার পর আমি হতভম্ব। বেশির ভাগ লেখককে দেখি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে দেখা হলে প্রথম চোটেই যেন লজ্জিতভাবে নিজের বইটি তাঁর হাতে গছিয়ে দিয়ে একটা ছবি তুলে ফেলেন। পরে সুবিধামতো অন্য কোনো লেখা বা বইয়ে সে ছবিটি ছেপে দেন। অথচ শহীদুল জহির এমনই প্রচারবিমুখ ছিলেন যে, নিজের অফিসের লোকেরাও তাঁর লেখার কথা জানত না। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাননি। মাথাব্যথাও করেননি। তাঁকে নিয়ে আজ একটার পর একটা গবেষণা হচ্ছে। আরো হবে। পুরস্কার পাননি কবি জসীমউদ্দীন, সাহিত্যিক মাহমুদুল হক। কিন্তু যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের অনেকেরই ‘নকশী কাঁথার মাঠে’র একটি পঙ্ক্তি বা ‘যেখানে খঞ্জনা পাখি’র একটি ছত্র লেখার মতো যোগ্যতাও নেই।
সাহিত্যিক মনের আনন্দে লেখেন এটাও যেমন সত্য, তার চেয়েও বড় সত্য তিনি পাঠকের জন্য লেখেন। পাঠক যদি না পড়ে তার লেখার মূল্য কী? তাই একজন লেখক ইচ্ছে করলেই যা খুশি লিখতে পারেন না। তার আছে সামাজিক দায়বদ্ধতা। লেখকের লেখা ছাপা হওয়ার আগ পর্যন্ত ওটা তার সম্পত্তি। কিন্তু লেখা ছাপা হওয়া মাত্র ওটা জনগণের সম্পত্তি, পাঠকের সম্পত্তি। কাজেই লেখককে লিখতে হবে ভেবে। পাঠকের কথা চিন্তা করে, সমাজের কথা চিন্তা করে, দেশের কথা চিন্তা করে। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘বাঙলা সাহিত্যে মুসলমান’ প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘সাহিত্য হচ্ছে বিশ্বের। ইহা একজনের হতে পারে না। সাহিত্যিক নিজের কথা, নিজের ব্যথা দিয়া বিশ্বের কথা বলিবেন, বিশ্বের ব্যথায় ছোঁয়াও দিবেন। সাহিত্যিক যতই সূক্ষ্ম তত্ত্বের আলোচনা করুন না, তাহা দেখিয়াই যেন বিশ্বের যে কোন লোক বলিতে পারে, ইহা তাহারই অন্তরের অন্তরতম কথা।’ এর থেকে সত্য, সুন্দর আর চিরন্তন কথা হতে পারে না।
লেখার ক্ষেত্রে যেমন লেখককে সচেতন হতে হবে তেমনি হতে হবে তার চালচলনে, ব্যক্তি জীবনে। মনে রাখতে হবে, একজন লেখককে অনেক নবীন লেখক অনুসরণ করে। জনগণ লেখক হিসেবে তাদের আলাদা নজরে দেখে, সমীহ করে, মর্যাদা দেয়। তাই একজন লেখকের কখনই উচিত নয় কোনো দলবন্দী হওয়া, কোনো সংগঠনবন্দী হওয়া বা কোনো কোটারিবন্দী হওয়া। উচিত নয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া, রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার করা। উচিত নয় সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি একটার পর একটা সভা সমিতিতে দৌড়ে বেড়ানো। এমন কাজ করা উচিত নয় যাতে পাঠক হতাশ হন, পাঠকহৃদয় দীর্ণ হয়। লেখকের এটা মনে রাখা দরকার, তার লেখা যদি কালজয়ী হয়, লেখার সাথে সাথে ব্যক্তিজীবনও অনুসন্ধান করবে পাঠকেরা, গবেষকেরা। তাই লেখকের ব্যক্তিজীবনও হওয়া দরকার ছিমছাম, স্বচ্ছ, অনুসরণীয়।
আল্লামা ইকবাল বলেছেন, ও ধস হড়ঃ ধ ঢ়ড়বঃ ড়ভ ঃড়ফধু. ও ধস ঃযব াড়রপব ড়ভ ঃড়সড়ৎৎড়.ি বলার মতো করে বলতে পারলে লেখকের কথা সমকালীন নয়, সে কথা চিরঞ্জীব, চিরায়ত। তাই লেখকেরা এমন কথা বলুন, এমন কাজ করুন, যা আপনার কণ্ঠস্বর হয়ে থাকবে। এ কথা আমি নিজেকেও বলছি।

আফরোজা পারভীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *